Posts

Showing posts from June, 2023

ভোলগা নদীর খোঁজে - ৬ ভোলগার উৎসে

Image
আমাদের যাত্রা শুরু হল ভোলগার উৎসের সন্ধানে। আস্তাশকভ থেকে কিছু দূর গিয়ে রাস্তা হারিয়ে গেল বুনো পথে। এখন আর এখানে হাইওয়ে নেই – সাধারণ পিচ ঢালা পথ। মাঝেমধ্যে সেটা চলে গেছে সেলিগের হ্রদের পাশ দিয়ে। এক সময় হ্রদও শেষ হয়ে যায়। আমরা এগিয়ে চলি সামনের দিকে। আমাদের যেতে হবে ভালদাই মালভূমিতে যেখানে জন্ম নিয়েছে স্রোতস্বিনী ভোলগা – ইউরোপের দীর্ঘতম নদী, এক সময় রাশিয়ার ধমনী। হয়তো এ কারণেই ভোলগাকে এরা বলে “মাতুশকা ভোলগা” বা মা ভোলগা – ঠিক যেন ভারতবর্ষের মা গঙ্গা। গঙ্গা যেমন ভারতের জন্য – ভোলগা তেমনি রাশিয়ার জন্য জীবন সুধা বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দুই দেশে এই দুই নদীর উপত্যকায় গড়ে উঠেছে বড় বড় শহর, বন্দর, বানিজ্য কেন্দ্র। গড়ে উঠেছে সভ্যতা। আর এ কারণেই দিলীপ এসেছে গঙ্গার সাথে ভোলগার আত্মীয়তার সূত্র খুঁজে বের করতে। আস্তাশকভ থেকে ৪২ কিমি উত্তর-পশ্চিমে ভোলগোভেরখভিয়ে গ্রামে সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ২২৮ মিটার উঁচুতে ভোলগার উৎস অবস্থিত। উৎস ছাড়াও এখানে আছে ওলগিনস্কি মহিলা মনাস্তির আর উনবিংশ শতকের স্পাস-প্রিওব্রাঝেনস্কি গির্জা। আছে ২০০১ সালে স্থাপিত অলৌকিক ঘটনা ঘটনপটীয়সী নিকোলাইয়ের স্ট্যাচু। কিয়েভের রানী¸ ভেশি ওলেগের পুত্...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৫ আস্তাশকভ

Image
তরঝক থেকে আস্তাশকভের দুরত্ব ১২৭ কিলমিটার। নির্জন রাস্তা। কালেভদ্রে দু' একটা গাড়ি দেখা যায়। পথ প্রায় জনপদ শূন্য। বন অথবা খোলা মাঠ। সেই পথ ধরে আমরা এগুচ্ছি অনিশ্চিতের সন্ধানে। এতক্ষণে বুঝে গেছি ভোলগার উৎসে আজ আর যাওয়া হবে না। রাত কাটাতে হবে আস্তাশকভেই। কি আছে বা নেই সেখানে, কিছু জানা নেই। দেমিদ পথেই চেষ্টা করছে রাতে থাকার কোন ব্যবস্থা করতে। এদিকে সূর্যের রথ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দিগন্ত বলয়ের দিকে যাতে সে সময় মত ঘুমের কোলে ঢলে পড়তে পারে। এখন রাত ছোট, তাই দেরি করলে আর ঘুমানোর সময় পাওয়া যাবে না। দেমিদ নিজেও চলছে সূর্যের সাথে পাল্লা দিয়ে। ইতিমধ্যে এক ভদ্রলোকের সাথে কথা হয়েছে। একটা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে আমাদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। তিনি অনুরোধ করেছেন আমরা যেন খুব দেরি না করি। যখন আস্তাশকভ এসে পৌঁছুলাম সূর্য ডুবতে শুরু করেছে সেলিগের হ্রদে। এখন অবশ্য সূর্য ডোবার পরেও গোধূলির আলোয় অনেকক্ষণ পর্যন্ত সবকিছু স্পষ্ট দেখা যায়। সেই আধো আলো আধো ছায়ায় শহরকে মনে হল জেলেদের বস্তির মত। কেন এমন মনে হল বলতে পারব না। হয়তো ছোট ছোট নৌকার কারণে। তাছাড়া জলাশয়ের পাশে লোকজন মাছ ধরবে এমন মনে করাও অসম্ভব কিছু নয়।...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৪ তরঝক

Image
তভের শহরের ৬৩ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে তভেরৎসা নদীর পাশে গড়ে ওঠা জনপদ তরঝকের অবস্থান ভালদাই মালভুমির পাদদেশে। আগে যেহেতু নদী পথই ছিল ব্যবসা বানিজ্যের প্রধান উপায় – তাই জনপদ বা বানিজ্য কেন্দ্র গড়ে উঠত কোন না কোন নদীর ধারে। শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে বয়ে যাচ্ছে তভেরৎসা নদী। রাশিয়ার অন্যতম প্রাচীন শহরের একটি এই তরঝক ঠিক কবে ও কারা প্রতিষ্ঠা করেছিল সেটা সঠিক জানা নেই তবে ধারণা করা হয় যে দশম ও একাদশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে নভগোরাদের বনিকরা এই শহরের গোড়াপত্তন করে। প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্য এই তত্ত্ব সমর্থন করে। নবতরঝক ক্রেমলিনের নীচের স্তরে সুপ্রাচীন কাঠের ফুটপাথ একাদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে তৈরি। বিশেষণ হিসেবে লাভরেন্তি দিনপঞ্জিতে ৬৫২৩ সালের গ্রীষ্মে নবতরঝস্কির এফিমের উল্লেখ আছে। ৬৫২৩ সাল খ্রিষ্টীয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১০১৫ সাল। এফিম ছিলেন কিয়েভের রাজা ভ্লাদিমিরের ছেলে বরিসের সাথীদের একজন। তবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উল্লেখ পাওয়া যায় ১১৩৯ সালের নভগোরাদের দিনপঞ্জিতে যা যুবরাজ ইউরি দলগোরুকির দ্বারা সুজদাল দখলের সাথে জড়িত। উল্লেখ করা যেতে পারে যে যুবরাজ ইউরি দলগোরুকিই ১১৪৭ সালে মস্কো শহরের গোড়াপত্তন করেন। ত...

ভোলগা নদীর খোঁজে -- ৩ পথে এবার নাম সখা

Image
দেমিদ আমাকে নামিয়ে দিল বাসার সামনে। আমাদের মিটিঙের সময় গুলিয়া চেষ্টা করছিল নিজের গাড়িতে যাচ্ছে এমন কারও সাথে ক্রিমিয়ায় চলে যেতে। আমিই চেষ্টা করছিলাম তেমন একটা গাড়ি ম্যানেজ করতে। তবে শেষ পর্যন্ত সেটা হয়নি। বাসায় ফিরে শুনলাম শেষ মুহূর্তে প্লেনের টিকেট পেয়ে ও কিছুক্ষণ আগে এয়ারপোর্টে চলে গেছে। সেদিক থেকে আমার দায়িত্ব একটু কমে গেল। সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রস্তুত হচ্ছি। দেমিদ জানাল ওদের একটু দেরি হবে। তাই আমিও একটু সময় নিয়ে রেঁধে বাচ্চাদের খাইয়ে, নিজে খেয়ে ওদের অপেক্ষায় বসে রইলাম। ওরা যখন এলো ততক্ষণে বারোটা বেজে গেছে। পরে বুঝলাম শুধু ঘড়িতেই নয় আমাদের প্রথম দিনের প্ল্যানেরও বারোটা বেজে গেছে। রাস্তাঘাটে গাড়ির ভিড়। তাই যাত্রার শুরুটা যে খুব মসৃণ হবে না সেটা বোঝা যাচ্ছিল। ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে বিদায় নেবার পালা। ক্রিস্টিনা এখনও বাসা ভাড়া পায়নি। মনিকা আর সেভাকে বললাম ওকে সাহায্য করতে। ভাগ্যিস এখন ইন্টারনেটের যুগ, না হলে হুট করে চলে যাওয়া সম্ভব হলেও এতটা সহজ হত না। দেখতে দেখতে নভদেভিচি মনাস্তেরি চোখের আড়ালে চলে গেল, চোখের আড়ালে চলে গেল মস্কো সিটির আধুনিক স্কাইস্ক্র্যাপারগুলো। এগুলো নিয়ে মস্কভিচ ব...