Posts

Showing posts from April, 2024

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৫০ সারাতভের সকাল

Image
১৮১২ সালের পিতৃভূমির যুদ্ধ সারাতভের জনজীবনে পরিবর্তন নিয়ে আসে। সারাতভের অনেক সেনা রাষ্ট্রীয় পদক পায়, আর তিন জন সোনার তলোয়ার উপহার পায় যেখানে লেখা ছিল – সাহসের জন্য। ১৮১৩ সালে সারাতভে যুদ্ধবন্দী ফ্রান্স সেনাদের এনে তাদের শহর নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা হয়। পরে এদের অনেকেই রাশিয়ার নাগরিকত্ব গ্রহণ করে জার্মান বস্তিতে বসবাস করতে শুরু করে। এদের অনেকেই গৃহশিক্ষক, শিক্ষক, চর্মকার, সূত্রধর ইত্যাদি পেশায় নিয়োজিত হয়। ফ্রান্সের বিরুদ্ধের বিজয়ের স্মৃতি হিসেবে সারাতভের কেন্দ্রে আলেক্সান্দর নেভস্কি গির্জা প্রতিষ্ঠিত হয়। নিকোলাই পাভলোভিচের রাজত্বকালে সারাতভে জেল, দুর্গ, গ্যারিসন, অগ্নি নির্বাপক টাওয়ার ইত্যাদি গড়ে ওঠে। ১৮২৮ সালে এখানে টোব্যাকো কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়াও এখানে দড়ি, চর্ম, ঘন্টা ও ইটের কারখানা গড়ে ওঠে। তাঁতিরা সারপিনকা নামে স্বল্প মূল্যের কাপড় উৎপাদন শুরু করে। এই সারপিনকার জন্মস্থান ছিল সারেপ্তা নামে এক জার্মান বস্তি যেখানে আমরা যাব ভোলগাগ্রাদ ভ্রমণের সময়। আঠারো শতকের শেষ ও উনিশ শতকের শুরুতে সারাতভে বিভিন্ন স্থাপনা প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১৭৮৬ সালে পাবলিক স্কুল, ১৭৯৪ সালে ছাপাখানা, ১...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৪৯ সারাতভ

Image
সারাতভ প্রদেশে আমরা অনেক আগেই ঢুকে পড়েছি। মস্কো থেকে শুরু করে এতটা পথ এলাম, তাতে উগলিচের আগে কিলোমিটার দুয়েক পথ বাদ দিলে সমস্ত রাস্তাই ছিল মসৃণ। কিন্তু সারাতভে সমস্ত পথটাই কেমন ঝাঁকুনিপূর্ণ মনে হল। মনে হল অন্য কোন দেশে চলে এসেছি। এখানে আসলে রাস্তা ঘাটের মালিকানা বিভিন্ন ধরণের। কিছু আছে ফেডারেল হাইওয়ে যেটার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের, আছে প্রাদেশিক রাস্তা, আছে মিউনিসিপ্যাল রাস্তা। মালিকানার উপর নির্ভর করে বাজেট, আর বাজেটের উপর রাস্তার স্বাস্থ্য। আমার মনে আছে অনেক পুরানো এক ঘটনার কথা। তখন ছেলেমেয়েরা ছোট। পেরাম্বুলেটরে ওদের চলাফেরা। রাস্তায় রেল লাইন পেরুতে হয়। এক সময় পায়েচলা রাস্তা মেরামত করছে, অথচ রেল লাইনের ওখানটা ওভাবেই রেখে দিয়েছে। কেন সেটা ঠিক করছে না জিজ্ঞেস করায় বলল, এটার মালিক রেলওয়ে। চাইলেও ওদের স্পেশাল পারমিশন ছাড়া আমরা ওখানে হাত দিতে পারব না। যাহোক, এই প্রথম জার্নিটা বেশ ক্লান্তিকর মনে হল। সামারা থেকে আমরা বেরিয়েছিলাম সকাল সাড়ে নয়টার দিকে। পথে পুগাচেভে নেমে, গরুর পালের ছবি তুলে আমরা যখন সারাতভ পৌঁছুলাম বিকেল হয়ে গেছে। রাস্তাও খুব একটা কম নয় – প্রায় ৪১০ কিলোমিটার। দেমিদ জোরে টান...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৪৮ পুগাচেভ

Image
সামারা থেকে আমরা চলছি সারাতভের দিকে। আমার মনে তখন হাজারো প্রশ্ন। এত কাছে এসেও রাশিয়ার অন্যতম প্রধান এক শহর প্রায় না দেখেই আমরা চলে যাচ্ছি। মনে করার চেষ্টা করছি সামারার পরিচিত মানুষদের কথা। সেই সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা পড়াশুনা করত। আমি খুব পছন্দ করতাম চিঠি লিখতে। বিশেষ করে ১৯৮৬-১৯৮৭ সালে যখন সর্ব সোভিয়েত ছাত্র সংগঠনের শিক্ষা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি তখন ফর্মাল ইমফর্মাল প্রচুর চিঠি লিখতাম। খারকভ, লেনিনগ্রাদ, কিয়েভ, ওদেসা, কিশিনেভ, মাহাচকালা, তাসকেন্ত (তাসখন্দ), আস্ত্রাখান, রাস্তভ না দানু (রোস্তভ অন ডন), ভারোনেঝ, ক্রাস্নাদার, মুরমানস্ক – কত শহরে যে চিঠি লিখেছি। পরবর্তীতে কাজান, উলিয়ানভ, পেরম ইত্যাদি বিভিন্ন শহরের অনেকের সাথে আলাপ হয়েছে। কিন্তু মস্কোয় এক বিকেলে পরিচয় হওয়া সামারার এক মেয়েকে ছাড়া কারো কথা মনে করতে পারছিলাম না। পড়ে বুঝলাম এর কারণ সামারা বা তৎকালীন কুইবিশেভ ছিল বিদেশীদের জন্য বন্ধ। তাই আমাদের কেউ এখানে পড়াশুনা করত না, যেমন করেনি গোর্কি বা নিঝনি নভগোরাদে। যাহোক, আমরা সামারা থেকে চলে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত সামারাই একমাত্র শহর যেখানে আমি কোন উপাসনা...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৪৭ সামারার বৃষ্টি

Image
পরের দিন ঘুম থেকে উঠে দেখি এক নাগারে বৃষ্টি হচ্ছে। না, সেটা ইয়ারোস্লাভলের বৃষ্টির মত ছিল না, যখন আমাদের শহরে না ঢুকেই পলায়ন করতে হয়েছিল। তারপরেও বোঝা যাচ্ছিল, এখানে থাকলে সময় কাটবে মূলত ঘরে বসে। তাই ঠিক করলাম এর মধ্যে অন্তত ভোলগা তীরের আশেপাশে একটু ঘুরে দেখা যাক। তবে ইতিমধ্যেই আমি নেটে সার্চ দিয়ে সামারার দর্শনীয় স্থানগুলোর একটা লিস্ট করে দেমিদের হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলাম। আসলে কয়েক দিন থেকেই আমি এটা করছি। কারণ কোথাও গিয়ে খোঁজ খবর নেয়ার চেয়ে আগে থেকে খোঁজ নিয়ে যাওয়াই ভালো। তাতে সময় সাশ্রয় হয়। কিন্তু জায়গাগুলোয় না যেতে পারলে একটু মন খারাপ যে হয় না তাও কিন্তু নয়। তাই সব কিছুরই ভালো মন্দ দুটো দিকই আছে। তাই আগে চলুন ঘুরে আসি সামারার দর্শনীয় স্থানগুলো। হ্যাঁ, সামারা আমাদের পথের অনেক শহরের মত প্রায় হাজার বছরের পুরানো নয়, কিন্তু নাই নাই করেও সে চারশ পঁয়ত্রিশ বছরের যুবা। তার আছে নিজস্ব ইতিহাস, আছে ঐতিহাসিক স্থান, আছে শহরবাসীর প্রিয় জায়গা। শেষ পর্যন্ত যেতে পারব কিনা জানি না, তবে মনে মনে সেসব জায়গায় ঢুঁ মারতে সমস্যা কী? তবে তার আগে আমরা আবার ফিরে যাব ইতিহাসে। ১৮৫০ সালে সম্রাট প্রথম নিকোলাই সামারা ...