Posts

Showing posts from September, 2023

ভোলগা নদীর খোঁজে - ২০ প্লিওস

Image
কস্ত্রোমা থেকে আমরা রওনা হলাম প্লিওসের পথে। আমার পরিকল্পনায় অবশ্য প্লিওস ছিল না। আমি চেয়েছিলাম রিবীনস্ক যেতে। রিবীনস্ক উগলিচ আর ইয়ারোস্লাভলের মাঝে ভোলগা তীরে এক বড় শহর। আর এই রিবীনস্ক ও ইয়ারোস্লাভলের মাঝে আছে আরও একটা সুন্দর শহর রোমানভ-বরিসোগ্লেবস্ক বা তুতায়েভ। তবে নদী তো নিজের মত করে চলে, তাই উগলিচ থেকে ভোলগা ইয়ারোস্লাভল আসে অনেক ঘুরে। রিবীনস্ক যাবার ইচ্ছা ছিল এ কারণে যে বছর পনেরো আগে সেখানে এক ফটো এক্সিবিশনে আমার একটা ছবি প্রদর্শিত হয়েছিল। দেমিদ বলল সেক্ষেত্রে আমাদের আবার অনেকটা উপরে মানে উত্তরে যেতে হবে আর তাতে একটা দিন নষ্ট হবে। কম্প্রোমাইজ ভ্যারিয়ান্ট হিসেবে ও প্লিওসের নাম প্রস্তাব করল। প্লিওস সত্যিকার অর্থেই ভলগা তীর খুব সুন্দর এক শহর। তাছাড়া এটা নিঝনি নভগোরাদের পথে। তাই আমরা পরবর্তী যাত্রা বিরতি প্লিওসে করব বলে ঠিক করলাম। ইভানভা রেজিওনের এই শহর রাশিয়ার ঐতিহাসিক শহরের ফেডেরেল লিস্ট ভুক্ত। ইভানভা রেজিওনে ট্যুরিস্টদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় এই শহরে মাত্র ২ হাজার লোক বাস করে। পর্যটনের দিক দিয়ে রাশিয়ায় ছোট শহরগুলোর প্রথম চারটি শহরের একটি এই প্লিওস। কবে যে প্লিওসের দুর্গ নির্মিত হয়েছিল...

ভোলগা নদীর খোঁজে - ১৯ কস্ত্রোমা

Image
কস্ত্রোমা, ভোলগার তীরে রাশিয়ার প্রাচীন শহরগুলোর একটি। ১১৫২ সালে ইউরি দোলগোরুকি এই শহর প্রতিষ্ঠা করেন। মস্কো থেকে ৩৩০ কিলোমিটার দূরে এই শহরে বর্তমানে ২৬৬ হাজার মানুষ বসবাস করে। দ্বাদশ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত এই শহর ত্রয়োদশ শতকে স্থানীয় রাজ্যের কেন্দ্রে পরিণত হয়। শহরের ঐতিহাসিক কেন্দ্রে অষ্টাদশ শতকের শেষ দিকের স্থাপনা কমবেশি সুরক্ষিত আছে। তবে পিটার দ্য গ্রেট পূর্ববর্তী যেসব স্থাপনা এখনও আছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ইপাতিয়েফস্কি আর বোগোইয়াভলেনস্কি-আনাস্তাসিনি মনাস্তির দুটো। এই শহর বর্তমানে সরকারীভাবে ঐতিহাসিক শহরের মর্যাদা প্রাপ্ত। এছাড়া বর্তমানে কস্ত্রোমা রিজিওনের রাজধানী কস্ত্রোমা শ্রম শক্তির শহরের মর্যাদাও পেয়েছে। আর এর অর্থ হল কস্ত্রমা শুধু প্রাচীন ঐতিহাসিক শহরই নয়, বর্তমান রাশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাছাড়া কস্ত্রোমা রাশিয়ার গোল্ডেন রিঙের অন্তর্ভুক্ত। ১৯৬০ এর দশকে ইউরি বিচকভ, যিনি গোল্ডেন রিং নামক এক ট্যুরিস্ট রুটের প্রস্তাব করেন, নিজে কস্ত্রোমা শহরের নাম এখানে যোগ করেন। আমরা বেশ কয়েকবার গোল্ডেন রিঙের কথা উল্লেখ করেছি। হয়তো এ নিয়ে পাঠকদের মনে ইতিমধ্যে প্...

ভোলগা নদীর খোঁজে - ১৮ গির্জা আর মিউজিয়ামের শহর ইয়ারোস্লাভল

Image
২০২১ সালে আমাদের ইয়ারোস্লাভল ভ্রমণ শুরু হয় শহরের ঐতিহাসিক কেন্দ্র থেকে। শহরের ঐতিহাসিক কেন্দ্রে বুল্ভারড মিরা বা শান্তি সরণীতে অনির্বাণ শিখা বা চিরন্তন শিখা নামে মেমোরিয়াল কম্পোজিশন আছে। যে দুটো গ্রানাইটের দেয়ালের মাঝে এই চিরন্তন শিখা জ্বলছে তার একটাতে আছে শ্রমজীবী নারী – অন্যটায় সৈনিক। এটা ইয়ারোস্লাভলের শ্রমজীবী ও সেনাদের বীরত্বের প্রতীক। এখান থেকে উসপেনস্কি সাবর স্পষ্ট দেখা যায়। মস্কো ক্রেমলিনের পাশে অজানা সেনাদের সমাধি থেকে আনা আগুন দিয়ে এই চিরন্তন শিখা জ্বালানো হয়েছিল। এরপরে দীর্ঘ রাস্তা যেটা পর্যটকদের নিয়ে যায় সোনালী গম্বুজের উসপেনস্কি গির্জার দিকে। ১২১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই গির্জা বিংশ শতকের শুরুতে ধ্বংস করা হয়। ৫০ মিটার উঁচু ও ৪০০০ স্থান বিশিষ্ট এই গির্জা ২০১০ সালে পুনর্নির্মাণ করা হয়। এই এলাকা ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে সংরক্ষিত। এক সময় এখানে ক্রেমলিন বা দুর্গ থাকলেও আজ আর তার অস্তিত্ব এখানে নেই। বিভিন্ন আক্রমণে ধ্বংস হয়ে গেছে সেই ক্রেমলিন। এর ভেতরে বিভিন্ন গির্জা পরবর্তী পর্যায়ে জনগণের অর্থে পুনর্নির্মিত হলেও ক্রেমলিন আর গড়ে তোলা হয়নি। ভোলগার উঁচু তীরে অবস্থিত এই স্থান...

ভোলগা নদীর খোঁজে - ১৭ ইয়ারোস্লাভলে একদিন

Image
আমরা ইয়ারোস্লাভলের দিকে যাচ্ছি আর মনে পড়ছে এর ইতিহাস। মাত্র মাস খানেক আগে ১৭ জুলাই ২০২১ আমরা এখানে এসেছিলাম এক এক্সারশনে। তখন গাইড শুনিয়েছিলেন ইয়ারোস্লাভলের ইতিহাস। গত পর্বে সে সম্পর্কে অনেকটাই বলেছিলাম। আমাদের ইয়ারোস্লাভল ট্রিপের গল্প বলার আগে সেটাই না হয় শেষ করা যাক। স্মুতা বা অরাজকতার সময় ইয়ারোস্লাভল কিছুদিন রুশ সাম্রাজ্যের রাজধানীর দায়িত্ব পালন করে। রুশ দেশে রোমানভ ডাইনাস্টি ক্ষমতা গ্রহণ করার পরে ইয়ারোস্লাভল বানিজ্য ও কুটির শিল্প কেন্দ্র হিসেবে দ্রুত বিস্তার লাভ করে। এটা তখন ছিল আয়তনের দিক থেকে রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আর বানিজ্যের দিক থেকে তৃতীয় বৃহত্তম। সে সময় এই শহরে রুশ দেশের সব চেয়ে প্রভাবশালী বনিকদের এক ষষ্ঠাংশ বসবাস করত। উত্তরে আরখানগেলস্ক থেকে দক্ষিণে বুখারা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল তাদের বাণিজ্য। এখানকার গুরিয়েভ বনিকরা বর্তমান কাজাখস্তানে গুরিয়েভ শহরের পত্তন করেন। এরাই ইয়ারোস্লাভলে রঝদেস্তভা খ্রিস্তভা গির্জা স্থাপন করেন যেখানে ইসলামী সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করা হয়। সপ্তদশ শতকে ইয়ারোস্লাভল খ্যাতির শিখরে পৌঁছে। এই শতকে এখানে তিনটি মনাস্তির ও কম করে হলেও ৬০ টি পাথরে...

ভোলগা নদীর খোঁজে - ১৬ ইয়ারোস্লাভল

Image
ইয়ারোস্লাভল – রুশ দেশের প্রাচীনতম শহরগুলোর একটি। একাদশ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত এই শহরটি উন্নতির শিখরে পৌঁছে সপ্তদশ শতকে আর ২০১০ সালে সহস্র বছর পূর্তি উৎযাপন করে। ইয়ারোস্লাভলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সাধারণত মে মাসের শেষ শনিবার উৎযাপন করা হয়, তবে ২০১০ সালে সহস্র বছর উৎযাপন করা হয় ১০ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর। শহরের ঐতিহাসিক কেন্দ্র কতরসলি নদী যেখানে ভোলগায় মিলিত হয় সেখানে অবস্থিত। বর্তমানে তা ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ। এছাড়াও ইয়ারোস্লাভল রাশিয়ার বিখ্যাত গোল্ডেন রিঙের অন্তর্ভুক্ত। শুধু তাই নয়, ইয়ারোস্লাভল গোল্ডেন রিঙের সবচেয়ে বড় শহর। ছোট শহরগুলো কমপ্যাক্ট বিধায় ঘুরে দেখতে সুবিধা, কিন্তু এখানে সব দেখতে হলে অনেক জার্নি করতে হয় যা সময় সাপেক্ষ। এই শহরের সবচেয়ে প্রাচীন জনপদ ভোলগার বাম দিকে যেখানে কতরসলি নদী ভোলগায় মিলিত পড়েছে তার বিপরীতে পাওয়া গেছে। এই জনপদ খ্রিস্টপূর্ব পাঁচ থেকে তিন হাজার বছর আগের ও নব্য প্রস্তর যুগের সাথে সম্পর্কিত। সাবেক মেদভেদিৎসে নদীর মোহনায় নব্য লৌহ যুগের যে জনপদ পাওয়া গেছে সেটা খ্রিস্টপূর্ব এক হাজার বছরের। নবম শতকে এখানে স্কান্ডিনাভ ও স্লাভিয়ান জনপদ ছিল। খননকার্যে প্রাপ্ত সমাধি থ...