Posts

Showing posts from November, 2023

ভোলগা নদীর খোঁজে – ২৮ মালিনোভস্কি স্তারিওব্রিয়াদচেস্কি সাবর

Image
পেচেরস্কি ভজনেসেনস্কি মনাস্তির থেকে আমরা রওনা হলাম মালিনভস্কি সাবরের দিকে। সেটা অন্য এক গ্রামে, এখান থেকে বেশ খানিকটা অনেক দূরে। এসব জায়গায় জিপিএস মনে হয় ঠিকঠাক কাজ করে না। যাই হোক, সেই গির্জার খোঁজে আমরা চলে গেলাম পাশের গ্রামে। দেখি এক মহিলা গরু নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। আমার মনে পড়ে গেল নিজের গ্রামের কথা। তবে এখন বাংলাদেশের অনেক গ্রামেই আর গরু, লাঙ্গল এসব পাওয়া যায় না। মনে আছে, ২০১১ ও ২০১৪ সালে দেশে গিয়ে অনেক খুঁজেও হাল চাষ করার ছবি তুলতে পারিনি। পরে এ ধরণের ছবি তুলি চেন্নাই গিয়ে, চেন্নাই থেকে পন্ডিচেরি যাবার পথে। যাহোক, সেই মহিলাকে জিজ্ঞেস করে গ্রামের পথ ধরে আমরা চললাম মালিনভস্কি সাবরের খোঁজে। এসে পৌঁছুলাম প্রায় ভাঙ্গা এক গির্জার পাশে। প্রথমে মনে হয়েছিল গির্জাটা পরিত্যক্ত। যখন এদিক সেদিক ঘুরে ছবি তুলছি তখন এক ভদ্রলোক এগিয়ে এলেন। পোশাক দেখে বুঝলাম গির্জার পাদ্রী। তিনি মনে হয় দুপুরের খাবার সেরে রেস্ট নিচ্ছিলেন। জানতে চাইলেন কোত্থেকে এসেছি, কিসের খোঁজে। যখন বললাম কথা বলতে চাই, বললেন একটু অপেক্ষা করুন, আমি পোশাক বদলিয়ে আসছি। আমরা এদিক সেদিক ঘুরে আবার ছবি তুলতে শুরু করলাম। দিলীপ জানালো কি ...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ২৭ পেচেরস্কি ভজনেসেনস্কি মনাস্তির

Image
ভোলগা তীরের শহরে ঘুরতে ঘুরতে আমরা এসে পৌঁছি রাশিয়ার তৃতীয় শহর নভগোরাদ, যদিও ইদানীং কাজানও তৃতীয়ত্বের দাবি করে। ১৬১২ সালে বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে পোল্যান্ড যখন রাশিয়া দখল করে তখন এ শহরের ব্যবসায়ীরাই প্রিন্স পঝারস্কি আর ব্যবসায়ী কুজমা মিনিনের নেতৃত্বে রুশ দেশ শত্রু মুক্ত করে রোমানভ বংশের হাতে দেশে চালানোর দায়িত্ব দেন। ভ্রমণের এক পর্যায়ে আমরা এসে উপস্থিত হই পিচরস্কি মুঝস্কই মনাস্তেরিতে। ছেলেরা এখানে থেকে ধর্ম শিক্ষা নেয়। রাশিয়ার মনাস্তেরিগুলোর বৈশিষ্ট্য হল সেখানে মিউজিয়ামের উপস্থিতি। সোভিয়েত আমলে জাগোরস্ক (সেরগিয়েভ পাসাদ), সুজদাল, রোস্তভ ভেলিকি, পেরেস্লাভল জালেস্কি, ভেলিকি নভগোরাদ বা পরবর্তীতে আলেক্সান্দ্রভ, ইউরিয়েভ পোলস্কি ইত্যাদি যেখানেই গেছি সেখানেই আমাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে মনাস্তিরের ভেতরে এসব মিউজিয়ামে। এসব মনাস্তিরে শুধু রাজ রাজাদের পোশাক পরিচ্ছদ, ঢাল, তলোয়ার এসবই থাকে না, বা সেই সময় চার্চের লোকেরা কী ধরণের পোশাক পরতেন সেই নমুনাই থাকে না, থাকে সেই সময়ের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, তাদের পোশাক পরিচ্ছদ, সেই সময়ের কৃষি, শিল্প এসবের নমুনা। আর যেহেতু জার আমলে মনাস্তেরি, গির্জা এসব স্থানেই ...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ২৬ মাক্সিম গোর্কি

Image
আমরা যখন নিঝনি নভগোরাদ আসি তখন মাত্র এক রাতের জন্য বাসা পাই। তাই সকালে গ্রামে যাবার আগেই নতুন বাসায় উঠতে হয়। সারা দিন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে কচালভ সিঁড়ি থেকে সূর্যকে বিদায় দিয়ে আমরা বাসায় ফিরি বেশ রাতে। এখন আগামীকালের প্ল্যান ঠিক করতে হবে। সেটা মাথায় রেখে নেট ঘেঁটে এখানকার বিভিন্ন উপাসনালয়ের লিস্ট করলাম। কেন উপাসনালয়? কারণ সুদূর অতীতের যেসব স্থাপনা এখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে তাদের মধ্যে উপাসনালয়ই প্রধান। এর বাইরে যা আছে তার বেশির ভাগ ব্যক্তি মালিকানায় বিধায় সেখানে যাওয়া ততটা সহজ নয়। মিউজিয়াম তুলনামূলক ভাবে ব্যয় সাপেক্ষ ও অনেক সময় নেয়। রাজপ্রাসাদ মূলত রাজাদের ইতিহাস। সেদিক থেকে পুরানো মন্দির, মসজিদ, গির্জা ইত্যাদি যদি সবার জন্য খোলা থাকে তাহলে প্রায় বিনা পয়সায় সেখানে যাওয়া যায়, প্রয়োজনে স্বল্প খরচে শুধু উপাসনালয়ের নয়, সেই এলাকার বিস্তারিত ইতিহাস জানা যায়। আর যেহেতু শুধু স্থানীয় নয়, বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ তীর্থ ভ্রমণ করে তাই এসব উপাসনালয় নিজেদের ভেতরে বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ইতিহাস লুকিয়ে রাখে। অন্তত সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়ার বিভিন্ন উপাসনালয় ভ্রমণ করে আমার এটাই মনে হয়েছে...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ২৫ নেভস্কি গির্জা ও চকালভ সিঁড়ি

Image
বেরিওজোভাইয়া পইমা থেকে দুপুরের পর পর আমরা এলাম নেভস্কি গির্জায়। ওকা যেখানে ভোলগায় পড়ছে সেখানে অবস্থিত হলুদ রঙের এই গির্জাটি। এর পুরো নাম আলেক্সান্দর নেভস্কি নভইয়ামারচনি সাবর। নভইয়ারমারচনি মানে নতুন মেলা বা বাজার। এক সময় ওকা নদীর ওপার থেকে নভগোরাদের বিখ্যাত বাজার বা মেলা রুশে যাকে বলে ইয়ারমারকা এখানে স্থানান্তরিত করা হয়, তাই এটা নতুন মেলা বা নভইয়ারমারকা নামে পরিচিত। আর গির্জা তৈরি করা হয় বিখ্যাত রুশ বীর আলেক্সান্দর নেভস্কির সম্মানে। আলেক্সান্দর নেভস্কি ছিলেন পেরেস্লাভল- জালেস্কির রাজা (পরবর্তীতে কিয়েভ ও ভ্লাদিমিরের গ্র্যান্ড ডিউক) ইয়ারোস্লাভল ভসেভোলোদোভিচের দ্বিতীয় পুত্র, নভগোরাদের রাজা ও কিয়েভ এবং ভ্লাদিমিরের গ্র্যান্ড ডিউক। তিনি ছিলেন সেই সময়ের রুশ দেশের অন্যতম প্রধান সেনাপতি যিনি বিভিন্ন যুদ্ধে ফিন, লিথুনিয়ান ও জার্মানদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন। তাঁকে পরবর্তীতে রুশ চার্চ সেন্ট হিসেবে ঘোষণা করে। সম্রাট দ্বিতীয় আলেক্সান্দরের এই মেলায় আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতে নিঝনি নভগোরাদের বনিকরা ১৮৫৬ সালে একটি গির্জা তৈরি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং দীর্ঘ ১০ বছর অর্থ সংগ্রহের পরে ১৮৬৬ সালে গির্জা তৈরি...