Posts

Showing posts from December, 2023

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৩৩ কাজান ক্রেমলিন

Image
বাউমান স্ট্রীট ধরে হাঁটতে হাঁটতে চলে যাওয়া যায় কাজান ক্রেমলিনে। পথ তো মাত্র মিনিট পনেরোর। সামনে ক্রেমলিনের সাদা দেওয়াল। এখানে খেয়াল করেছি শহরগুলোর ক্রেমলিন বা দুর্গের দেয়াল হয় লাল না হয় সাদা। তবে সাদার পরিমানই বেশি। কাজানকা নদীর তীরে বেশ উঁচু জায়গায় অবস্থিত ক্রেমলিন একই সাথে শহর দেখার এক উৎকৃষ্ট জায়গা। এখন প্রথমেই যেটা চোখে পড়বে তা হল কাজানের প্রধান মসজিদ কুল-শরীফ। ২০০৫ সালে এই মসজিদ তৈরি করা হয়। কাজান খানদের বিখ্যাত ও বহু মিনার বিশিষ্ট মসজিদ পুনর্নির্মাণের তাড়না থেকে এর কাজ শুরু হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। উল্লেখ করা যেতে পারে যে সব ক্রেমলিনই হয় উঁচু জায়গায় অবস্থিত অথবা চারিদিক থেকে নদী বা বাধ দিয়ে ঘেরা। এটা প্রতিরক্ষার তাগিদ থেকে। আজ কাজানকে বলা হয় রাশিয়ার তৃতীয় রাজধানী। কিন্তু মাত্র ২০-৩০ বছর আগেও কাজান ছিল আর দশটা মফঃস্বল শহরের একটা। বাউমান রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে ক্রেমলভস্কায়া মেট্রোর কাছে এলেই চোখে পড়বে কাজানের ড্রাগন জিলান্ত। এই জিলান্তের প্রতিকৃতি আঁকা আছে কাজানের ও স্থানীয় ফুটবল দল রুবিনের পতাকায়। আরেকটু সামনে এগিয়ে গেলে দেখা যাবে দক্ষিণ-পশ্চিম টাওয়ার। ১৫৫২ সালে ইভান গ্রজনি কাজ...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৩২ বাউমান স্ট্রীট

Image
এখানে প্রায় প্রতিটি শহরেই কিছু কিছু রাস্তা আছে যাকে বলে প্যাডেস্ট্রিয়ান স্ট্রীট বা পথচারী রাস্তা। রাশিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত এমন রাস্তার নাম আরবাত। মস্কোর কেন্দ্রে ক্রেমলিন থেকে দুই কিলমিটার দূরে এই রাস্তা কী মস্কোবাসী, কী দেশী – বিদেশী, সব ধরণের অতিথিদের অন্যতম প্রিয় জায়গার একটি। রাস্তা তো নয় যেন মেলা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই উৎসব। যদিও সকালটা আপেক্ষিক – মানে বেলা বারোটা। শিল্পীরা বসে ছবি আঁকছে, কেউ ছবি তুলছে, কেউ বিক্রি করছে বই, কেউ ডাকছে ক্যাফেতে। বিশাল বিশাল জানালা দিয়ে উঁকি দিচ্ছে রঙ বেরঙের স্যুভেনির। এক কথায় এখানে আসা মানেই মন ভালো হয়ে যাওয়া। মনে আছে ছাত্র জীবনে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করলেই আরবাতে চলে যেতাম। চারিদিকে শত শত মানুষ তুমি কাউকে চেন না, কেউ তোমাকে চেনে না – এ যেন জন অরণ্যে হারিয়ে যাওয়া। আর পাশের নতুন আরবাতে বিখ্যাত বইয়ের দোকান দম কনিগি আর ক্যামেরার দোকান জুপিটার। কাজানে ঠিক এরকম একটা রাস্তার নাম বাউমান স্ট্রীট। এখানেও দুই ধারে সারি সারি দোকানপাট, খাবার দোকান, বিভিন্ন রকমের মনুমেন্ট, পুরানো স্থাপত্যের বাড়িঘর আর হাজার হাজার মানুষ। রিং নামে এক জনপ্রিয় সুপার মার্কেট থেকে ...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৩১ কাজানের পথে

Image
চেবোকসারি থেকে আমরা রওনা হলাম কাজানের পথে। কাজান – তাতারস্তানের রাজধানী। মস্কো আর দুবনার পরে এটাই রাশিয়ার একমাত্র শহর যেখানে আমি অনেকবার গেছি যদিও সোভিয়েত আমলে কখনই সেখানে যাওয়া হয়নি। তবে কাজান নামটি তখনই পরিচিত ছিল। কারণ এখানেই লেনিন পড়াশুনা করেছিলেন আর রাজনৈতিক কারণে এই কাজান বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তাই যারাই সোভিয়েত ইউনিয়নে পড়াশুনা করেছে তারা সবাই কাজান নামটির সাথে পরিচিত বলেই আমার বিশ্বাস। প্রথমবারের মত আমি কাজান যাই ২০০৭ সালে। আসলে সে সময় কাজান ছিল ট্র্যানজিট। সেবারই আমি প্রথম রাশিয়ান গ্র্যাভিটেশনাল সোসাইটি আয়োজিত কোন কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করি। সে সময় আমি ডিএসসি থিসিস লিখছিলাম, তাই এ রকম কনফারেন্সে গিয়ে নিজের গবেষণা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের অবহিত করার দরকার ছিল, সম্ভাব্য অপনেন্টদের সাথে কথা বলার প্রয়োজন ছিল। তাছাড়া সেখানে আমার পরিচিত অনেকেই ছিল। এখানে আরও অনেকের সাথে বন্ধুত্ব হয়। এর পর থেকে আমি কাজানে গ্র্যাভিটেশন ও কসমোলজির উপরে কোন কনফারেন্স হলেই চলে যাই। এর পেছনে অবশ্য কাজানের বন্ধুদের অবদানই বেশি। এখন ওখানে নিজেকে আর বাইরের বলে মনে হয় না। পরিবেশটা আমাকে বার বা...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৩০ চেবোকসারি

Image
নিঝনি নভগোরাদ থেকে আমরা রওনা হলাম কাজানের পথে। রাস্তায় কয়েক ঘণ্টার জন্য যাত্রা বিরতি চেবোকসারিতে। চেবোকসারি – চুভাশ প্রজাতন্ত্রের রাজধানী। রাশিয়ায় তিন ধরণের প্রাশাসনিক ব্যবস্থা আছে। ইতিমধ্যে আমরা মাস্কভা বা মস্কো, তভের, ইয়ারোস্লাভল, কস্ট্রোমা, ইভানভা, নিঝনি নভগোরাদ এসব রিজিয়নের সাথে পরিচিত হয়েছি। এগুলো মূলত রুশ অধ্যুষিত এলাকা। এছাড়া আছে জাতি ভিত্তিক এলাকা যাদের রিপাবলিক বা প্রজাতন্ত্র নামে অভিহিত করা হয়। এদের মধ্যে পড়ে চুভাশ, তাতারস্তান, বাশকিরিস্তান, চেচনিয়া, ইঙ্গুশেতি, মারি এল, মারদোভা, কালমিকি ইত্যাদি। আর আছে শহর যারা এই দুই ধরণের ইউনিটের মতই – যেমন মস্কো, সাঙ্কত পিতেরবুরগ, সেভাস্তোপোল। চুভাশ প্রজাতন্ত্রের জনগণ মূলত চুভাশ জাতি ভুক্ত। ১৯৯০ এর দশকে এখানকার প্রধান ছিলেন ফিওদরভ। খুব সক্রিয় রাজনীতিবিদ। তাই তাঁকে এখনও মনে আছে। স্থানীয় চুভাশ ভাষায় চেবোকসারির নাম শুপাশকার। যেখানে চেবোকসারি নদী ভোলগায় পড়ছে সেখানে ভোলগার ডান তীরে গড়ে উঠেছে এই জনপদ। নৃতাত্ত্বিক খননকার্য থেকে জানা যায় যে বর্তমান চেবোকসারির এখানে ত্রয়োদশ – চতুর্দশ শতকে বুলগার ও চুভাশদের বসতি ছিল। ভেনিসবাসী ফ্রান্সিস্কো ও ডোমিন...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ২৯ নিঝনির মানুষ

Image
কোন দেশ বা শহর বা জনপদ শুধু সেখানকার দালানকোঠা বা প্রকৃতি নয়, তার মানুষ। এই মানুষই কোন জায়গাকে বিশেষ করে। তভের সম্পর্কে বলতে গিয়ে আমরা যেমন আফানাসি নিকিতিনকে এড়িয়ে যেতে পারিনি, একই ভাবে নিঝনি নভগোরাদের কথা বলতে গিয়ে আমরা কিছু নাম এড়িয়ে যেতে পারব না। এর মানে এই নয় যে এদের বাইরে উল্লেখ করার মত কেউ নেই, তবে আমরা এখানে মাত্র কয়েকজনের মধ্যেই আমাদের গল্প সীমাবদ্ধ রাখব। আমার ধারণা এরা সবাই রাশিয়ায় ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মাক্সিম গোর্কি ও ভালেরি কচালভের কথা স্বল্প পরিসরে আমরা ইতিমধ্যেই বলেছি। এখন আরও কয়েক জনের কথা বলব যাদের দু’জন চার শ’ বছর আগে ইতিহাস গড়েছেন আর কেউ কেউ আমাদের সমসাময়িক। রাশিয়ার ইতিহাস নিয়ে বলতে গিয়ে বার বার এসেছে দুটো নাম – কুজমা মিনিন ও যুবরাজ পঝারস্কি। মনে হয় তাদের সম্পর্কে একটু না বললে পাঠকদের তো বটেই, তাদের প্রতিও অবিচার করা হবে। কারণ রিউরিক ও তাঁর বংশধররা রুশ সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন করলেও আজকে যে রাশিয়া আমরা দেখি সেটা তৈরি হয়েছে প্রথমে রোমানভ বংশ ও পরে সোভিয়েত শাসকদের হাতে। মোঘল শাসন, ব্রিটিশ আমল ও আধুনিক ভারতের সাথে তুলনা করলে রোমানভ বংশের শাসনামল...