Posts

Showing posts from February, 2024

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৪১ ছবি

Image
হাঁটতে হাঁটতে আমরা প্রথমে গেলাম সেই মিউজিয়ামে যেখানে ৫০০ কিলগ্রাম ওজনের কোরআন রাখা আছে। নীচের তলায় আছে বিভিন্ন সময়ের পোশাক পরিচ্ছদ, অনেক ছবি আর দোতলায় একটি কাঁচের ঘরে কোরআন। বেশ কিছুক্ষণ সেখানে ঘুরে গেলাম উসপেনস্কি সাবরে। দেখলাম ছোট মিনার, খানদের সমাধি। পাশেই বিশাল সামিয়ানা, মনে হয় প্রাচীন আমলের তাঁবুর অনুকরণে তৈরি। এখান থেকে বহুদুর পর্যন্ত ভোলগা দৃশ্যমান। হয়তো কামার কিছু অংশও। প্রাকৃতিক দৃশ্য সত্যি দেখার মত। বরাবরের মতই পর্যটকদের ভিড়। গল্প করতে করতে যাই জাদুঘরের দিকে। উদ্দেশ্য যাদুঘর দেখব আর দুপুরের খাবার খেয়ে নেব। যাদুঘর সত্যি দেখার মত। সেই প্রাচীন কাল থেকে মানে বুলগার রাজ্যের উত্থান থেকে বর্তমান পর্যন্ত এদের ইতিহাস। বিভিন্ন সময়ের পোশাক, অস্ত্রশস্ত্র, বাসনপত্র, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জিনিসপত্র। আসলে এখানে জাদুঘরগুলো বেশ সমৃদ্ধ। বিভিন্ন মনাস্তিরের জাদুঘরগুলোর কথা আগে বলেছি। প্রায় সব জনপদের আছে আঞ্চলিক জাদুঘর। ধীরে ধীরে চলে আসি একেবারে নীচের তলায়। সেখানে বিভিন্ন স্যুভেনিরের দোকান। দিলীপ কিছু কেনাকাটা করে। আমিও। এরপর হাঁটতে হাঁটতে যাই ভোলগার তীরে। সেখানে দাঁড়িয়ে আছে পিতেরবুরগ নামে এক...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৪০ বলগার বা বুলগার

Image
তাতার ভদ্রলোক ও ভদ্রমহিলার ছবি তুলে তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়ে আমরা হাঁটতে শুরু করলাম জাদুঘরের দিকে। সেবার এই রাস্তাটুকু আমরা এসেছিলাম বাসে। এবার হাঁটতে গিয়ে দেখি অনেকটাই পথ। একেবারে শুরুতেই ফলকে লেখা আছে রাষ্ট্রীয় ইতিহাস ও স্থাপত্যের জাদুঘর বুলগার। দশম থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত ভোলগা তীরের বুলগার রাজ্যের রাজধানী। ধ্বংস প্রায় বিভিন্ন স্থাপনা, খাদ ও টিকে থাকা অন্যান্য চিহ্ন – এসবই হারিয়ে যাওয়া শহরের অমূল্য স্মৃতি যা রাষ্ট্র দ্বারা সংরক্ষিত। সমস্ত পরিবেশ পর্যটকদের নিয়ে যায় সুদূর অতীতে। হাঁটতে হাঁটতে আর ছবি তুলতে তুলতে আমরা চললাম বুলগার সাম্রাজ্যের ইতিহাসের জাদুঘরের দিকে। উপর থেকে একতলা এই বিল্ডিং দেখতে বেশ সাদামাটা। কিন্তু ভেতরে ঢুকতে বোঝা যায় এসব শুধুই মায়া। কেননা এখান থেকে টিকেট কেটে এক্সেলেটরে করে একের পর এক তলা পেরিয়ে নীচের দিকে নামতে হয়। একেবারে শেষ ভোলগার তীর। সেখানে জাহাজ ঘাট। বহুতল বিশিষ্ট এই বিল্ডিং শুধু ঐতিহাসিক জাদুঘরই নয়, রীতিমত আধুনিক শপিং মল, যদিও পণ্য সামগ্রীর বেশির ভাগ স্থানীয় স্যুভেনির। বুলগার বা বলগার বা চুভাশ ভাষায় পালহার তাতারস্তান রিপাবলিকের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অব...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৩৯ বলগার বা বুলগারের পথে

Image
পয়লা সেপ্টেম্বর ২০২১ আমরা কাজান থেকে রওনা হলাম উলিয়ানভস্কের পথে। অনেক পরিচিত বন্ধুবান্ধব থাকার পরেও সেরকম কিছু এখানে করা যায়নি দিলীপের জন্য। ভেবেছিলাম তানিয়া একটা ফ্যামিলি ফটোসেশনের ব্যবস্থা করতে পারবে। সেটাও হয়নি শেষ পর্যন্ত। একটা কাজ হয়তো করা যেত। পয়লা সেপ্টেম্বর রাশিয়ায় নতুন শিক্ষা বর্ষের শুরু। দীর্ঘ তিন মাস ছুটির পর স্কুল মুখরিত হয় শিশুদের কলরবে। বিশেষ করে যারা জীবনে প্রথম বারের মত স্কুলে যাচ্ছে সেটা তাদের ও তাদের বাবা-মাদের জন্য যাকে বলে ঐতিহাসিক ঘটনা। সেই দিনের গল্প চলবে অনেক দিন, পারিবারিক অ্যালবামে স্থান পাবে সেদিনের অসংখ্য ছবি। হয়তো বা চেষ্টা করা যেত দিলীপকে নিয়ে সেরকম কোন এক স্কুলে যেতে। তবে তখন মনে হয়নি আর সময়ও তেমন ছিল না। ফারহাদ বলেছিল উলিয়ানভস্ক যাবার পথে আমরা কামা নদীর তীরে জেলেদের পল্লীতে যেতে পারি। দিলীপকে সেটা মনে করিয়ে দিলাম, তবে ও ইতিমধ্যে হতাশ হয়েছে এসব ব্যাপারে। আসলে এতদিনেও আমি দিলীপকে বোঝাতে সক্ষম হয়নি যে এদেশের মানুষজন আমাদের দেশের মত নয়, নিজ নিজ কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত। আমাদের দেশে যদি যেকোনো টি-স্টলে বসলে রাজ্যের খবর পাওয়া যায় এখানে সেরকম কিছু নেই। হয়তো কিছু ব...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৩৮ আধুনিক তাতারস্তান

Image
ঘোরার ফাঁকে ফাঁকে কথা হয় দেমিদ আর দিলীপের সাথে। বিভিন্ন প্রশ্ন দিলীপের মনে। যতদূর পারি উত্তর দেই। কাজান এখন আমার প্রিয় শহরগুলোর অন্যতম। এটা মূলত এখানকার বন্ধুদের কারণে। তাছাড়া অনেক বার আসার ফলে এ শহর সম্পর্কে, এখানকার মানুষদের সম্পর্কে একটা ধারণাও হয়েছে। কথায় কথায় দিলীপ জিজ্ঞেস করল তুমি তো এখানকার অতীত সম্পর্কে অনেক গল্প করলে। ইভান গ্রজনির কাজান বিজয়, রানী সিউইউম্বিকে আরও কত কী? বর্তমান সম্পর্কে কিছু বল শুনি। আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে এই শহর সম্পর্কে বলি। প্রথম এখানে আসি আমি ২০০৭ সালে। সেবারের ভ্রমণ ছিল ট্র্যাঞ্জিট। এখানে কয়েক ঘণ্টা কাটিয়ে আমরা ইয়ালচিকে গেছিলাম। সে গল্প তো তোমাকে করেছি। তবে যেহেতু এক বা দুই বছর পর পর আসি তাই পরিবর্তনগুলো বেশ চোখে পড়ে। সেই ২০০৭ থেকে আজ পর্যন্ত কাজানের পরিবর্তন নিজের চোখে দেখেছি। সোভিয়েত আমলে যেখানে অধিকাংশ এলাকা কম বেশি উন্নত বা একই রকম ছিল, দেশের প্রায় সমস্ত জনবসতি সভ্যতার আলোয় আলোকিত হয়েছিল, নতুন রাশিয়ায় সবাই সেটা ধরে রাখতে পারেনি। মস্কোর পাশে তভেরের অনেক কালখোজ, সাবখোজ মানে যৌথ খামার বন্ধ হয়ে গেছে। গ্রাম তো বটেই অনেক শহর পর্যন্ত জনশূন্য হয়ে গেছে। য...