Posts

Showing posts from June, 2024

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৫৯ আস্ত্রাখানের ভোলগা তীরে

Image
ক্রেমলিন থেকে বেরিয়ে আমরা চললাম ভোলগা তীরে। পথে পড়ল লেনিনের স্ট্যাচু। এতে অবশ্য অবাক হবার কিছু নেই। এদেশের প্রতিটি শহরের এক বা একাধিক লেনিনের স্ট্যাচু আছে। কিছুটা দূরেই এক মহিলার ভাস্কর্য – কলসী কাঁখে শুয়ে আছেন। সেখান থেকে হাঁটতে হাঁটতে আমরা চললাম ভোলগার দিকে। রাস্তার দুই দিকে পুরানো দালানকোঠা, মনে হয় বিপ্লবের আগের তৈরি। গ্রীষ্মে মানে কিছু দিন আগেও এখানে যে ট্যুরিস্টদের ভিড় ছিল সেটা বুঝতে অসুবিধা হয় না। আসলে আস্ত্রাখানে ভোলগা বিভিন্ন শাখা প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে কাস্পিয়ান সাগরে পড়েছে। একটা শাখার অন্য পাড়ে দেখলাম পদ্ম ফুটে আছে, যদিও সেটা ঠিক তেমন নয় যেমনটা শুনেছি গল্পে। কয়েক বছর আগে আমার স্ত্রী গুলিয়া মেয়ে ক্রিস্টিনা আর ছেলে সেভাকে নিয়ে এখানে এসেছিল পদ্মপুকুর দেখতে। সেটা ঘটে গ্রীষ্মের শুরুতে। পদ্মে পদ্মে ঢেকে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। দেখতে মনে হয় যেন পদ্মপুকুর, মানে বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্ম ফুলে ঢাকা যেমনটা আমাদের দেশে শাপলা ফুটে থাকে মাঠের পর মাঠ। এখানে তেমন কিছু দেখলাম না, মাত্র কয়েকটি পদ্ম ফুটে আছে। এখন যেহেতু পদ্মের মৌসুম নয়, তাই খুব বেশি কিছু দেখার আশা ছেড়ে দিলাম, যদিও শহর থেকে বেশ দূরে যেখা...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৫৮ আস্ত্রাখান

Image
তুষারের অফিস থেকে চা খেয়ে আমরা বেরুলাম ক্রেমলিনের উদ্দেশ্যে। খুব বেশি দূরে নয়। পথে ও নিয়ে গেল নিজের আরেকটি মার্কেটে। সেখানেই পরিচয় হল এক ছেলের সাথে। কতই বা বয়েস – ৩০ – ৩২? জানলাম ওর বাবুশকা মানে দিদিমাকে কাজাখস্তানে নির্বাসিত করা হয়েছিল, ওর মায়ের জন্ম ওখানেই। বললাম আমরা ওনাদের সাথে দেখা করে কথা বলতে চাই। এর আয়োজন করা কি সম্ভব? দেখুন, ওনারা শহরের এখন বাইরে। তাছাড়া বাবুশকা এ নিয়ে কারো সাথে কথা বলতে চান না। আমি জিজ্ঞেস করে দেখব, যদি রাজী হন জানাব। ঠিক আছে। আমরা আরও কয়েক দিন এখানে আছি। তুমি জিজ্ঞেস করে আমাদের অবশ্যই জানিও। ওখান থেকে হাঁটতে হাঁটতে আমরা গেলাম ক্রেমলিনের দিকে। পথে পড়ল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সেনাদের স্মৃতিস্তম্ভ। এখানকার বাড়িঘর অনেকটা সাঙ্কত পিতেরবুরগের কথা মনে করিয়ে দেয়। অনেকটা সেই ফ্যাশনেই তৈরি। কিছুটা দূরে দেখা গেল ক্রেমলিন। ধবধবে সাদা। মস্কো আর নিঝনি নভগোরাদের ক্রেমলিন বাদে আমার দেখা আর সমস্ত জায়গার ক্রেমলিনের রংই সাদা দেখেছি। আমরা ক্রেমলিনে ঢুকলাম প্রেচিস্তেনস্কি তোরণ দিয়ে। ক্রেমলিনে ঢুকেই চোখে পড়ল বিশাল গির্জা – উস্পেনস্কি সাবর। একটু দূরে বিশাল প্যান্ডেল তৈরি হচ...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৫৭ তুষার

Image
আমাদের পরবর্তী গন্তব্য আস্ত্রাখান। আস্ত্রাখানের নাম শোনা যায় গ্রীষ্মে যখন এখানকার বিখ্যাত তরমুজ রাশিয়ায় বিভিন্ন শহরে দোকানে দোকানে স্থান পায়। আমাদের দেশে যেমন কাঁঠাল, এদেশে লোকজন তেমনি বিশাল বিশাল তরমুজ কিনে বাড়ি নিয়ে যায়। এছাড়া আস্ত্রাখানের মাছ, পদ্ম এসবও খুবই নামকরা। এখনও মনে পড়ে ছাত্রজীবনে আমার চেয়ে ১০ বছরের সিনিয়র গনেশ দার কাছে বেড়াতে আসতেন আস্ত্রাখানের প্রনত বড়ুয়া দা। গনেশ দা তখন গণিতে পিএইচডি করতেন। বড়ুয়া দা সাথে করে নিয়ে আসতেন তিন লিটারের বয়ম ভর্তি ব্ল্যাক ক্যাভিয়ার। আমি আর আমার রুমমেট শ্রীকুমার গনেশ দার সাথে সকালে দৌড়ুতে যেতাম আর সেখান থেকে ফিরে গনেশ দার ঘরে বাটার আর ক্যাভিয়ার দিয়ে রুটি খেতাম। কয়েক বছর পরে আমার বন্ধু ও ইয়ারমেট তুষার বিমলের ওখানে বেড়াতে এলে মাছ নিয়ে আসত। আর ও যখন মস্কো চলে আসে পিএইচডি করতে, ওর গুবকিনের রুমে বিমলের সাথে যেতাম আস্ত্রাখানের মাছ খেতে। এখন প্রনত দা ক্যানাডায়, তুষার আস্ত্রাখান আর দুবাইয়ে আপডাউন করে দিন কাটায়। তাই এমনকি মস্কো থেকে বেরুনোর অনেক আগেই তুষারকে বলে রেখেছিলাম সম্ভাব্য যাত্রার কথা। অনেক দিন পরে ছাত্রজীবনের বন্ধুদের সাথে দেখা হলে, কথা হলে বেশ...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৫৬ কানাল ভোলগা দন

Image
সারেপতা থেকে আমরা গেলাম ভোলগা নদীর তীরে। এখানে নদী তীরে লেনিনের এক বিশাল স্ট্যাচু। এটাই লেনিনের সবচেয়ে উঁচু মূর্তি। উচ্চতার দিক থেকে দ্বিতীয় মূর্তিটি দুবনায়। দুটোই দুই কানালের শুরুতে। দুবনায় মস্কো কানালের শুরুতে লেনিনের মূর্তি দাঁড়িয়ে আছে। এই কানাল মস্কো নদীকে ভোলগার সাথে যুক্ত করেছে। এখানে, ভোলগাগ্রাদের ভোলগা তীরে লেনিন দাঁড়িয়ে আছেন ভোলগা দন কানালের মুখে। এই কানাল ইউরোপীয় রাশিয়ার দুই বৃহৎ নদী ভোলগা ও দনকে সংযুক্ত করেছে। যেহেতু লেনিনের স্ট্যাচুর কথা উঠল, প্রথমেই এর বর্ণনা দিয়ে নিই। স্ট্যাচুর নীচেই বিস্তারিত লেখা আছে এ সম্পর্কে। তবে কানাল উদ্বোধন করার সাথে সাথেই এই স্ট্যাচু এখানে বসানো হয়নি। ১৯৫২ সালের ২৭ জুলাই এই কানালের নামকরণ করা হয় ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের নামে আর কানালের প্রবেশ পথে ৩০ মিটার উচুর বেদীর উপর ২৪ মিটার উঁচু স্তালিনের স্ট্যাচু স্থাপন করা হয়। ভাস্কর ইয়েভগেনি ভিকতরোভিচ ভুচেতিচ ও স্থপতি লিওনিদ মিখাইলোভিচ পলিয়াকভের তৈরি এই স্ট্যাচুর জন্য বিশেষ ধরণের তামা উত্তোলন করা হয়। ১৯৬২ সালের মার্চ মাসে স্তালিনের কাল্ট ধ্বংস করার অংশ হিসেবে এই স্ট্যাচু সরিয়ে ফেলা হয় যার পরবর্তী ভাগ্য সম...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৫৫ সারেপতা-অন-ভোলগা

Image
ভোলগাগ্রাদ গিয়েই আমি জেমসকে মেসেজ পাঠালাম। কিছুক্ষণ পরে উত্তর এলো যে ও মস্কোয় কাজে ব্যস্ত। তাই দেখা করতে পারছে না। তখন জানতে চাইলাম স্থানীয় জার্মানদের সম্পর্কে। তেমন কিছু বলতে না পারলেও জানালো যে ভোলগাগ্রাদে সারেপতা নামে একটি এলাকা আছে। সেখানে গিয়ে খুঁজে দেখতে পারি। যদিও সেটা ছিল কিছু আভাস মাত্র, তবে অনেক সময় এসব খবরও অন্ধের যষ্ঠির মত কাজ করে। আমরা ঠিক করলাম সকালে মামায়েভ কুরগান ঘুরে ওদিকে যাব। মামায়েভ কুরগান ঘুরে যখন সারেপতা এসে পৌঁছুলাম তখন দুপুর একটা পেরিয়ে গেছে। এদিক সেদিক জিজ্ঞেস করে আমরা এলাম এক চার্চের কাছে। এটা প্রটেস্ট্যান্টদের চার্চ। সেটা ছিল রবিবার। স্বাভাবিক ভাবেই চার্চে তখন লোকজন থাকে। তবে গিয়ে জানলাম প্রার্থনা শেষ হয়ে গেছে আর সবাই বাড়ি ফিরে গেছে। তারপরেও দুই এক জনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলাম। এদের চার্চগুলো রুশ চার্চের মত ততটা জাঁকজমক পূর্ণ নয়। কোথায় যেন বলেছিলাম রুশ চার্চ আমাকে হিন্দু মন্দিরের কথা মনে করিয়ে দেয়। মন্দিরে যদি মূর্তি থাকে, তবে রুশ চার্চে থাকে আইকন, থাকে মোমদানী, ধুপের গন্ধ। সেদিক থেকে ক্যাথলিক বা প্রটেস্ট্যান্টদের চার্চ অনেকটা বিচারালয়ের মত অথবা ক্লাস র...