Posts

Showing posts from August, 2024

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৬৮ কাশিরা

Image
এবার আমরা চললাম মস্কোর পথে। পথের ধারে একের পর এক শস্যপূর্ণ জমি। প্রায়ই চোখে পড়ছে সূর্যমুখীর ক্ষেত। মনে পড়ল ২০১৪ সালের কথা। সেবার আমরা আবখাজিয়া গেছিলাম গ্রীষ্মের ছুটিতে। এর আগে সাধারণত ইউক্রেন, ক্রিমিয়া, ককেশাস ছিল আমাদের ছুটি কাটানোর জায়গা। সাধারণত দুই তিন দিনের জন্য কিয়েভ বা ওদেসা ঘুরে যেতাম ক্রিমিয়ায়। সেখানে সপ্তাহ খানেক সমুদ্র স্নান করে ককেশাসের পর্বত শ্রেণী ঘুরে মস্কো ফিরতাম। তবে ২০১৪ সালে দনবাসে যুদ্ধ শুরু হলে আবখাজিয়া, ককেশাসের মধ্যেই আমাদের ঘোরাফেরা সীমাবদ্ধ রাখি। সেবার আদিগেইয়ার কামিন্নোমস্তিনস্কি থেকে ক্রাস্নোদার আসার পথে দেখেছিলাম এরকম সূর্যমুখী ক্ষেত। তবে বাস ফেল করতে পারি সেই ভয়ে আর নামা হয়নি। সেই দুঃখ রয়েই গেছিল। তাই এখানে সুযোগ হাতছাড়া করলাম না। আমি আর দিলীপ নেমে গেলাম সূর্যমুখী ক্ষেতে। তবে সমস্যা একটাই। গাড়ি থেকে যত সুন্দর মনে হয়, নামার পরে ভিউটা আর সেরকম থাকে না। ফলে ঠিক যে ভিঊটা তুলব বলে নামা সেটা আর হয়ে ওঠে না। এর পরেও বেশ কিছু ছবি তুললাম দু' জনে মিলে। গাড়ি এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুত গতিতে। আসলে এসব হাইওয়েতে দ্রুত না চলে উপায় নেই। হঠাৎ দিলীপ দেমিদকে বলল গাড়ি থামাতে। দেম...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৬৭ তামবভে এক রাত

Image
তামবভে এবারই আমার প্রথম আসা যদিও এই শহরের নাম শুনেছি অনেক। তামবভের নেকড়ে তোমার কমরেড নয় – এটা একটি বহুল প্রচলিত বাক্য। ধারণা করা হয় যে তামবভের কৃষকদের সশস্ত্র অভ্যুত্থান যা আন্তোনভ বিদ্রোহ নামে পরিচিত তখন থেকেই তামবভের নেকড়ে কথাটি জনপ্রিয়তা লাভ করে। তবে এই প্রবাদের সাথে আরও অনেক ভার্সন জড়িত আছে। এদেশে খ্রিস্টান ধর্ম প্রচারের আগে এই এলাকায় স্লাভিক ও ফিনো-উগর জাতির বিভিন্ন জনগোষ্ঠী বসবাস করত। তারা আধা যাযাবর জীবন যাপন করলেও সংসারীও ছিল। ধারণা করা হয় যে স্থানীয় লোকজন ছিল মূর্তি পুজারী আর তাদের ঈশ্বরের বাহ্যিক রূপ ছিল নেকড়ের মত। হয়তো পাশের রাজ্যের জনগণের মনে এই এলাকার মানুষের ভাবমূর্তি ছিল নেকড়ের মত যা স্লাভিক পুরাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর এভাবেই নেকড়ে এখানে লোককথার নায়কে পরিণত হয়। উল্লেখ করা যেতে পারে যে রামায়ণ মহাভারতেও অনেক জাতিই আর্যদের চোখে বানর, ভালুক ইত্যাদি রূপে প্রকাশ পেত। স্লাভিক লোককাহিনীতে নেকড়ে পরলোকের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করত, যার সাহায্য ছাড়া সেখানে প্রবেশ করা সম্ভব ছিল না। খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণের পূর্বে নেকড়ে ছিল পজিটিভ হিরো – সাহস, প্রবৃত্তি ও সংকল্পের প্রতীক। ...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৬৬ বরিসোগ্লেবস্ক

Image
১১ সেপ্টেম্বর ২০২১ আমরা ভোলগাগ্রাদ থেকে চললাম মস্কোর উদ্দেশ্যে। এখানেই শেষ হল আমাদের ভোলগা ভ্রমণ। কারণ এরপর আমরা যে পথে যাব সেটা ভোলগা থেকে অনেক দূরে। মস্কো থেকে আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম উত্তর দিকে। ভোলগার শুরু থেকে তভের, ইয়ারোস্লাভল, নিঝনি নভগোরাদ এ সবই ছিল মস্কোর উত্তরে। কাজানে এসে আমরা মস্কোর সাথে একই সমান্তরাল রেখায় পড়ি। এরপর যাত্রা দক্ষিণে। এই যাত্রা পথে বদলিয়েছে প্রকৃতি, বদলিয়েছে সময়। এখন আমাদের ঘরে ফেরার পালা। আগের মত টেনশন নেই, নেই কারো সাথে কথা বলার তাগিদ, নেই বইয়ের জন্য তথ্য জানার তাগিদ। এখন শুধুই নিজেদের কথা বলা, দীর্ঘ ভ্রমণে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা। - আচ্ছা বিজন, তুমি তো এ দেশে অনেক দিন। অনেক কিছুই দেখলে। এখন কী এখানে লোকজন আগের চেয়ে বেশি করে ধর্মের দিকে ঝুকেছে? - যতদূর জানি এ দেশের মোটামুটি ২% মানুষ ধর্মে বিশ্বাস করে। খুব কম লোকই নিয়মিত গির্জায় যায়। সেদিক থেকে নিয়মিত মসজিদে যাওয়া লোকের সংখ্যা মনে হয় আনুপাতিক ভাবে বেশি। - এটা কি এদের মানসিকতায় সেরকম কোন পরিবর্তন এনেছে? - আগে যারা উপাসনালয়ে যেত তাদের দিকে সবাই আড়চোখে তাকাত, এখন সেটা কেউ খেয়ালও করে না। এটা আমি নিজে...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৬৫ আবারও ভোলগাগ্রাদে

Image
এলিস্তা থেকে আমরা আবার রওনা হলাম ভোলগাগ্রাদের পথে। ভোলগাগ্রাদ হয়েই তুলনামূলক কম সময়ে মস্কো যাওয়া যাবে, তাই এই ব্যবস্থা। তবে এই রাস্তার প্রকৃতি আস্ত্রাখান এলিস্তার পথের পাশের প্রকৃতি থেকে ভিন্ন। রাস্তার দুই দিকের মনোরম দৃশ্য দেখতে দেখতে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি ভোলগাগ্রাদের দিকে, মস্কোর দিকে। এভাবে ফেরার প্ল্যান আমাদের আগে থেকেই করা ছিল। তাই আস্ত্রাখান যাওয়ার পথে যখন ভোলগাগ্রাদে ছিলাম তখন ইচ্ছা করেই কিছু কিছু প্রোগ্রাম বাদ দিয়েছিলাম। যেহেতু আমরা থাকতাম ভাড়া বাসায় আর আগে থেকে না বাসার ঠিকানা, না এর অবস্থা কিছুই জানা ছিল না, তাই এটাও ছিল এক ধরণের অ্যাডভেঞ্চার। দেমিদ এবার বাসা ঠিক করল খুবই নিরিবিলি এক এলাকায়। রাতে যখন খাবার কেনার জন্য গেলাম তখন সেটা টের পেলাম। যাহোক, কোন এক কারণে আমরা সরাসরি বাসায় না গিয়ে লাগেজ নিয়েই ঘুরতে গেলাম, মানে লাগেজ গাড়ির ভেতরেই ছিল। খুব সম্ভব যারা বাসা ভাড়া দেবেন তারা আগে দেখা করতে পারবেন না সে কারণে। তাই ভোলগাগ্রাদ এসে আমরা সোজা চলে গেলাম শান বাঁধানো ভোলগা তীরে। ভোলগাগ্রাদের নাবেরেঝনায়া বা শান বাঁধানো তীর শহরের প্রধান পায়েচলা পথ, ঠিক যেমন আরবাত মস্কোয়। জার্মান বাহিনীর...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৬৪ এলিস্তার বোধি পার্ক ও অন্যান্য

Image
বুদ্ধ শাক্যমুনির স্বর্ণ ভবন থেকে ওল্ড টেম্পলে যাবার পথে এক জায়গায় রাস্তার নির্দেশকে একটা পার্কের কথা লেখা আছে। যদিও বোঝা যাচ্ছিল সেটা নির্মাণাধীন তবুও দেমিদকে বলে ওদিকেই গাড়ি ঘোরালাম। প্রথমেই চোখে পড়ল একটা ত্রিশূল – ঠিক শিবের ত্রিশূলের মত। অন্তত আমার সেটাই মনে হয়েছিল। পরে অবশ্য জেনেছি সেটা আসলে চেঙ্গিস খানের ত্রিশূল। এটা ছিল চেঙ্গিস খানের শক্তির প্রতীক। তবে সব কিছু মিলে সেখানে একটি দেশীয় ঘ্রাণ ছিল। এলিস্তা শহরের দক্ষিণ অঞ্চলে এই পার্ক অবস্থিত। অতীত কালে এই জায়গায় ছিল ঝর্ণা যেখানে কালমিকদের পূর্বপুরুষেরা বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রার্থনা এবং জল ও জমির যিনি মালিক তাঁর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ পূজা পার্বণ করার জন্য মিলিত হত। এই পার্কের প্রতিষ্ঠাতাগণ প্রাচীন ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত এবং স্তেপের নিম্নভূমিতে একটি থিম পার্ক তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন। এখানে এসে লোকজন শুধু কালমিক সংস্কৃতির সাথেই পরচিত হতে পারবে না, শহরের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির মাঝে সময় কাটাতে পারবে। শহর আর এই পার্কের মাঝে ছিল খোলা ভূমি যেখানে চড়ে বেড়াচ্ছিল অনেক গরু, ঘোড়া আর মেষ। এই পার্কে ঢোকার মুখেই একটি পাথরে লেখা ছিল ...