Posts

Showing posts from September, 2024

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৭২ রীবিনস্ক আজকে

Image
গত সপ্তাহে আমরা রীবিনস্কের অতীত ইতিহাস নিয়ে বলেছি। আজ দেখব সোভিয়েত আমল আর বর্তমান দিনের রীবিনস্ক। ১৯১৮ সালের ২ মার্চ রীবিনস্কে সোভিয়েত রাজ প্রতিষ্ঠিত হয়, কিন্তু সেই বছরের ৮ জুলাই সেখানে ঘটে সোভিয়েত বিরোধী গণ অভ্যুত্থান। তবে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কর্তৃপক্ষ সেই বিদ্রোহ দমন করে। ১৯২০ এর দশকে এই শহর ছিল রীবিনস্ক প্রদেশের কেন্দ্র স্থল। তবে ১৯৩৬ সাল থেকে একে ইয়ারোস্লাভলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। শহরের নতুন পর্যায় শুরু হয় দেশের শিল্পায়নের সাথে। রাশান রেনো পরিণত হয় বিশাল মোটর তৈরির কারখানায়, তৈরি হতে থাকে বিমানের মোটর। ১৯৩২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রীবিনস্ক এভিয়েশন ইনস্টিটিউট। সোভিয়েত আমলে এসব কারখানা ঘিরে গড়ে উঠত শহর, কিন্তু রীবিনস্কের ক্ষেত্রে সেটা ঘটেনি। এর মূল কারণ ছিল বিমানের বাইরেও এখানে ছাপাখানার মেশিন তৈরির কারখানা, জাহাজ নির্মাণ কারখানা, রেল তৈরির কারখানা ইত্যাদি কাজ করত। এছাড়া এখানকার নদী বন্দর আগের মতই শহরের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে থাকে। ১৯৩৬ সালে বলশায়া ভোলগা প্রজেক্টের অধীনে শুরু হয় রীবিনস্ক জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির কাজ। দ্রুত গড়ে ওঠা কল কারখানায় যথেষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ স...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৭১ রীবিনস্ক

Image
রীবিনস্ক ভলগা তীরের আরোও একটি শহর যেখানে যাওয়ার প্ল্যান আমি দিলীপের সাথেই করেছিলাম। কিন্তু এর ভৌগলিক অবস্থানের কারণে করা হয়নি। সে সময় আমরা উগলিচ থেকে ১০৮ কিলোমিটার দূরে ইয়ারোস্লাভল চলে যাই। রীবিনস্ক যেতে হলে উগলিচ থেকে ৭৫ কিলোমিটার উত্তর পূর্বে যেতে হত আর সেখান থেকে ৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে ইয়ারোস্লাভলে পৌঁছুতে হত। এতে করে আমাদের ভোলগা ভ্রমণ আরও দীর্ঘ হত। সেসময় হাইওয়ে ছিল না, ফলে ভোলগা নিজের মত করে উগলিচ থেকে ইয়ারোস্লাভলে গেছে রীবিনস্ক হয়ে। এখনকার মত জিপিএস থাকলে ভোলগা নিশ্চয়ই এই বোকামি করত না। তা যে কারণেই হোক, সে সময় আমরা রীবিনস্ক যাইনি। এবার, মানে ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল যখন একটা এক্সারশনের আয়োজন করা হল, চলে গেলাম সেখানে। আসলে সেখানে যাওয়ার ইচ্ছে আমরা অনেক দিনের। ২০০৬ সাল থেকেই আমি বিভিন্ন ফটো সাইটে ছবি আপলোড করা শুরু করি। এদের একটি ছিল ফটোলাইন। ওরা একবার এসব ফটোগ্রাফারদের ছবির একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে রীবিনস্কে। আমার একটি ছবিও সেখানে নির্বাচিত হয়েছিল। সে সময় বিভিন্ন কারণে যাওয়া হয়নি। তবে যাওয়ার ইচ্ছেটা তখনই গড়ে ওঠে। আর এ কারণেই দিলীপ ভোলগা ট্রিপের আয়োজন করলে আমি রীবিনস্ক রাখি। যাহ...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৭০ বরিসোগ্লেবস্ক

Image
বরিসোগ্লেবস্ক তুতায়েভ শহরের ভোলগার দক্ষিণ তীরের প্রাচীন নাম বরিসোগ্লেবস্ক। বরিসোগ্লেবস্কের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় রমানভ শহরের পত্তনের আগে এবং এই নাম খুব সম্ভবত সেই সময়ের বরিস ও গ্লেব কাঠের গির্জার সাথে জড়িত। লাভরেনতিয়েভ দিনপঞ্জির সর্বশেষ নিরীক্ষায় দেখা যায় ১২৩৮ সালে মঙ্গোল বাহিনী ইয়ারোস্লাভল আক্রমণ করলে অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে বরিসোগ্লেবস্কে আশ্রয় নেয়। এই সময় উগলিচের যুবরাজ রোমান ভ্লাদিমিরোভিচ বরিসোগ্লেবস্ক আসেন ও ভোলগার অন্য তীরে দুর্গ তৈরির আদর্শ স্থান দেখে সেখানে রমানভ শহর পত্তনের সিদ্ধান্ত নেন। রমানভ শহরের প্রথম নির্মাণ কর্মীরা ছিল বরিসোগ্লেবস্কের স্থায়ী বাসিন্দা বা ইয়ারোস্লাভলের শরণার্থীরা। পঞ্চদশ শতকের রমানভের বিপরীতে বরিসোগ্লেবস্ক বড় জনপদে পরিণত হয় যেখানে মৎস্য শিকারীরা বসবাস করত। প্রথম দিকের রুশ সন্ত যুবরাজ বরিস ও গ্লেবের নামানুসারে এই জনপদের নাম রাখা হয় বরিসোগ্লেবস্ক। সপ্তদশ শতকের শুরুতে অরাজকতার সময়ে রমানভের সাথে বরিসোগ্লেবস্কও লুণ্ঠিত ও অগ্নি সংযোগে ধ্বংস হয়ে যায়। তবে জীবন নিজের পথে চলতে থাকে, গড়ে উঠে নতুন জনপদ। ১৭১৯ সালে প্রথম পিওতরের সময় বরিসোগ্লেবস্ক পিতেরবুরগের ইয়ারোস্ল...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৬৯ রমানভ

Image
রমানভ-বরিসোগ্লেবস্ক নামে এই শহরটি ভোলগার দুই তীরেই অবস্থিত। এটা আসলে দুটো স্বাতন্ত্র্য শহরের সমন্বয়ে তৈরি তাদের আছে নিজস্ব প্রশাসন। বর্তমানে একে তুতায়েভ নামেও ডাকা হয় আর পুরানো ইতিহাস স্মরণ করে ভোলগার বাম তীরকে বলা হয় রমানভস্কি অঞ্চল। রমানভ শহরের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ত্রয়োদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে যখন উগলিচের যুবরাজ রোমান ভ্লাদিমিরভিচকে সেইন্টহুডে অভিষিক্ত করা হয়। আর তাঁর নামানুকরনে এই শহরের নামকরণ করা হয় বলে ধারণা করা হয়। গোল্ডেন হোর্ড ও নভগোরাদের উশকুইনিদের বিভিন্ন হামলার ফলে কাঠের তৈরি এই শহর একাধিক বার ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। সে সময় শহর রক্ষার প্রধান উপায় ছিল কাঠের তৈরি উঁচু দেয়াল। ১৩৪৫ সালে ইয়ারোস্লাভলের রাজা নিষ্ঠুর চোখা ভাসিলি দেভিদোভিচের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র রোমান ভাসিলিয়েভিচ নতুন করে এই শহর তৈরি করেন এবং একে রমানভ রাজ্যের কেন্দ্রে পরিণত করেন। ১৪২৫ থেকে ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত চলমান জ্ঞাতি যুদ্ধে শহর ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ১৪৬৮ সালে রানী মারিয়া ইয়ারোস্লাভনা নতুন করে রমানভস্কি ক্রেমলিন তৈরি করেন। শহরে ১৫ মিটার উঁচু বাঁধ ও খাদ, সেতু ইত্যাদি তৈরি হয়। এসব পরতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৬২২ সালের অগ্নিকান্ডের আ...