Posts

Showing posts from October, 2024

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৭৬ সোভিয়েত সেনার প্রতি উৎসর্গীকৃত স্মৃতি স্তম্ভ

Image
সোভিয়েত সেনার প্রতি উৎসর্গীকৃত রঝেভের স্মৃতি স্তম্ভ – এটা ১৯৪২ – ১৯৪৩ সালে রঝেভ ও তার আশেপাশে হিটলারের বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেসব সোভিয়েত সেনা জীবন উৎসর্গ করেছে তাদের পুণ্য স্মৃতির উদ্দেশ্যে স্থাপিত। রঝেভ – ভিয়াজেমস্কি অপারেশন নামে খ্যাত ভয়াবহ সেই যুদ্ধ ক্ষেত্রে ২০২০ সালের ৩০ জুন এই মেমোরিয়াল কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করা হয়। মেমোরিয়ালের কেন্দ্রীয় চরিত্র ২৫ মিটার উঁচু সোভিয়েত সেনার বিশাল স্তম্ভ। ১০ মিটার উঁচু অষ্ট কোণী কৃত্রিম টিলার উপরে দাঁড়িয়ে আছে এক তরুণ সৈনিক। তার পরনে যোদ্ধাদের খেলার পোশাক আর তাকে পুরোপুরি আবৃত করে পেছনে উড়ছে রেইন কোট যা প্রয়োজনে তাবু হিসেবে ব্যবহার করা যায়। নীচের দিকে সেই কোট পরিণত হয়েছে ৩৫ টি বলাকায়। এই পাখীগুলি সৈনিককে সমর্থনকারী ধাতুর কাঠামো ঢেকে রেখেছে যার ফলে মনে হয় তরুণ সেনানী যেন দাঁড়িয়ে নেই, যেন সে উড়ছে, বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছে। সৈনিকের হাত দুটো ঝুলছে। ডান হাতে তার আগ্নেয়াস্ত্র। বাঁ দিকে ঘুরিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে সে। মেমোরিয়ালের সামনে ভিড় করা দর্শকদের পাশ কাটিয়ে চলে গেছে তার দৃষ্টি দিগন্তের ওপারে। সৈনিকের মুখ শান্ত, সে চিন্তামগ্ন, সে নির্বিকার। পাখীর দল...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৭৫ যুদ্ধ পরবর্তী রঝেভের কথা

Image
ব্যক্তি মানুষের মত সমষ্টি বা দেশের জীবনেও ওঠানামা আসে, আসে চড়াই উৎরাই। যদিও জীবনের কোন ঘটনাই কম গুরুত্বপূর্ণ নয় তবে ওই যে বলে না সব জন্তুজানোয়ারই সমান তবে কিছু কিছু জন্তুজানোয়ার বেশি রকম সমান। রঝেভের ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে সে সৃষ্টি করেছে দেশপ্রেমের নতুন উদাহরণ। ১৯৪১ সালের ১৯ জুলাই ভোরে জার্মান বিমান বাহিনীর বোমা বর্ষণে রঝেভে শুরু হয় নতুন জীবন। অবরোধের জীবন। উল্লেখ করা যেতে পারে যে জার্মানি সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করে ১৯৪১ সালের ২২ জুন। যুদ্ধের প্রথম মাসগুলোয় রঝেভ ও আশেপাশের জনপদ থেকে ১৬ হাজার মানুষ যুদ্ধে যায়। এদের কাউকে কাউকে ডাকা হয়েছিল, অনেকেই গেছিল স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে। তৈরি হয় মিলিশিয়া ইউনিট, তৈরি হয় ফাইটার ব্যাটালিয়ন, তৈরি হয় আত্মরক্ষা গ্রুপ। ১৯৪১ সালে গ্রীষ্ম ও শরত কালে রঝভের লোকজন দেশের প্রতিরক্ষা কাঠামো নির্মাণে নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করে। হিটলারের বাহিনী কর্তৃক মস্কো দখলের অপারেশনের নাম ছিল টাইফুন। আর সেই লক্ষ্যে মস্কোর আশেপাশে বিভিন্ন শহর বন্দর দখল করতে থাকে নাজি বাহিনী। যুদ্ধের ১১৫ দিনের মাথায় রঝেভ শত্রুর দখলে চলে যায়। ১৯৪১ সালের ১৪ অক্টোবর কয়েক শ’ বছরের রঝেভের...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৭৪ রঝেভ

Image
ভোলগার উৎস থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রঝেভ ভোলগা তীরের প্রথম বড় শহর। ভোলগার দুই তীরে বিস্তীর্ণ রঝেভ সৌন্দর্যে ভোলগা তীরের অনেক শহরকেই হার মানায়। রঝেভ একদিকে প্রাচীন শহর, আবার একই সাথে সে তরুণ। কেননা প্রায় আটশ’ বছরের পুরানো হলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সেই ধ্বংসস্তূপের উপর গড়ে ওঠে সম্পূর্ণ নতুন এক শহর। রঝেভের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ১২১৬ সালের ১ মার্চের নভগোরাদের দিনপঞ্জিতে। সেখানে ভ্লাদিমির-সুজদালের যুবরাজ সভ্যাতোস্লাভ ভসেভোলোদোভিচ কীভাবে রঝেভ মস্তিস্লাভল শহর অবরোধ করেন সেই বর্ণনা আছে। এছাড়াও এই এলাকায় প্রস্তর যুগের দুই শতাধিক নিদর্শন পাওয়া গেছে যাদের বয়স ১০ হাজার বছরের বেশি। রঝেভ গড়ে উঠেছে একটি বড় জনপদের কেন্দ্র হিসেবে ভালদাই মালভুমির উত্তর পূর্বে ভোলগার উঁচু তীরে যেখানে হলীনকি নদী এসে মিলেছে। এখানকার মানুষের পূর্বপুরুষেরা সেজন্য একটি সুন্দর কিন্তু শত্রুর জন্য দুর্গম একটি স্থান বেছে নেয়। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এই শহর সেলিগার হ্রদ, সেই সময়ের অন্যতম প্রধান শহর ভেলিকি নভগোরাদ ও বাল্টিক সাগর, আরব দেশ ও গ্রীসের সাথেও বিভিন্ন নদীপথে সংযুক্ত। বিগত কয়েক শ’ বছর রঝ...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৭৩ স্তারিৎসা

Image
স্তারিৎসা ভোলগার উজানে ছোট্ট এক শহর। ছবির মত দেখতে এই শহরে আমরা গেছিলাম ২০২৩ সালের ২৩ শে সেপ্টেম্বর। এই শহরের নাম আগে শুনেছি আমার ফটোগ্রাফার বন্ধুদের কাছে। কেন যেন মনে হয়েছিল সেটা দুবনার আশেপাশে কোথাও যেখানে সাইকেল চালিয়েই যাওয়া যায়। এরপর একদিন পলিনা বলল ও স্তারিৎসা ঘুরতে গিয়েছিল। ওর কাছে খোঁজ নিয়েই জানলাম এটা তভের পেরিয়ে যেতে হয়। ফলে তখন থেকেই এক ধরণের আগ্রহ আমার মধ্যে জেগে ওঠে সেখানে যাবার। যখনই এরকম একটি এক্সারশন পেয়ে গেলাম, চললাম এই শহরের উদ্দেশ্যে। এছাড়া ভোলগা তীরের শহর সেটাও আমাকে উদ্বুদ্ধ করে। এই লেখার প্রথম দিকে আমরা ভোলগার উৎসে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলাম আর সেখান থেকে আস্তাশকভ, তরঝক, নিলোভা পুস্তিন হয়ে তভের যাবার কথাও আমরা জেনেছি। ভোলগার উৎস থেকে তভের পর্যন্ত আমরা আর কোথাও ভোলগার দেখা পাইনি। আমরা এখন উজান বেঁয়ে সেই না দেখা ভোলগার খোঁজেই যাব। স্তারিৎসাকে বলা যায় শুরু থেকে ভোলগা তীরের দ্বিতীয় বড় শহর। প্রথমটির কথা আমরা বলব একটু পরে কোন এক পর্বে। কথিত আছে নভগোরাদের রাজা মস্তিস্লাভ উদালি খালোখোলনি নদী যেখানে ভোলগায় পড়ছে সেখানে আসেন। সে সময় এই নদীই ছিল নভগোরাদ ও তভের রাজ্যের সীমান্ত...