Posts

Showing posts from November, 2024

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৮০ দুবনা – আধুনিক কাল

Image
আমি দুবনা আসি ১৯৯৪ সালে। তখন সমস্ত রাশিয়ায় বাজার অর্থনীতি চালু হয়ে গেছে। রাজত্ব করছে বন্য পুঁজিবাদ। সোভিয়েত ইউনিয়নের রাস্তা ঘাট সবসময়ই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ছিল। বাজার অর্থনীতির পাল্লায় পড়ে সব রাস্তা ঘাট ভরে গেছে স্তূপীকৃত মালামাল আর ময়লায়। মস্কো পরিণত হয়েছে বিশাল এক নোংরা বস্তিতে। ঠিক এই সময় দুবনায় এসে মনে হল আবার যেন সোভিয়েত ইউনিয়নে ফিরে এলাম। সব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, দোকানপাট সোভিয়েত ইউনিয়নের দোকানপাটের মত ফাঁকা। বর্তমান দুবনা প্রথমে তভের অঞ্চলের অংশ ছিল আর যখন সোভিয়েত সরকার দুবনা প্রতিষ্ঠা করে মানে ১৯৫৬-১৯৫৮ সালে এটা ছিল কালিনিন (বর্তমানে পুনরায় তভের) প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত। পরে তা মস্কো প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৪৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পারমানবিক বোমা তৈরির প্র্যাক্টিক্যাল কাজ শুরু করার একটি গোপন নির্দেশ জারি করা হয় সোভিয়েত সরকারের পক্ষ থেকে। ধরে নিতে পারি এটা ঘটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট গ্যারি ট্রুম্যান স্তালিনকে পারমাণবিক বোমা সম্পর্কে অবহিত করার পরপরই। এটা ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রথম পারমাণবিক প্রোজেক্ট। ১৯৪৬ সালের ১৩ আগস্ট সোভিয়েত সরকার একটি শক্তিশালী সাইক্লোট্রন তৈরি...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৭৯ দুবনা – ইতিহাসের পাতা থেকে

Image
দুবনা, ভোলগা তীরের ছোট্ট এক শহর, ১৯৯৪ সাল থেকে আমার স্থায়ী নিবাস। বাংলাদেশে আমার জন্ম কালীগঙ্গা নদীর তীরে তরা গ্রামে। সেই নদীর তীরে খেলাধুলা করেই আমার বেড়ে ওঠা। তাই এখানে যখন ভোলগার তীরে হাঁটি, মনে হয় আমি যেন আমার কালীগঙ্গার তীরেই হাঁটছি। তাই দুবনার সাথে আমার মনে হয় এক আত্মিক সম্পর্ক যার শুরু ১৯৯৪ সালে নয়, ১৯৬৪ সালে আমার জন্মের সময় থেকে। ছাত্রজীবনে ইয়ারোস্লাভল থেকে জাহাজে করে মস্কো যাই। তাই দুবনা হয়েই যে গেছি তাতে সন্দেহ নেই। তবে সেই সময়ের দুবনার কথা আমার কিছুই মনে নেই, মনে নেই কখন কীভাবে এই শহরের ভেতর দিয়ে চলে গেছি। এ ছাড়াও ছাত্র জীবনে একবার দুবনায় এসেছিলাম। তৃতীয় বর্ষের ছাত্র হিসেবে। আমাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কোলাইডার দেখাতে। সে সময় দুবনা ছিল বদ্ধ শহর, বিদেশীদের আসতে মানা। কেন, সে গল্পে পরে আসছি। আমরা এসেছিলাম বাসে করে। গেছিলাম লেনিনের মূর্তির পাদদেশে। দুবনার লেনিনের স্ট্যাচু দ্বিতীয় বৃহত্তম। সবচেয়ে বড় স্ট্যাচু ভোলগাগ্রাদে ভোলগা-দন কানালের মুখে। সে বিষয়ে আমরা আগেই জেনেছি। দুবনা থেকে শুরু হয়েছে মস্কো কানাল। কানালের দুই দিকে দুটো স্ট্যাচু – একটি লেনিনের, আরেকটা স্তালিনের। তবে স্তালিনের ...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৭৮ মস্কো সাগর

Image
ইভানকোভস্কোয়ে রিজারভয়ার যা লোকমুখে মস্কো সাগর বলে পরিচিত উজানের দিক থেকে আপার ভোলগা রিজারভয়েরের পর ভোলগার উপর দ্বিতীয় রিজারভয়ার। এই রিজারভয়ার আপার ভোলগার দক্ষিণ প্রান্তের নিম্নভূমিতে অবস্থিত। এর উৎপত্তি হয়েছে ইভানকভস্কি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাঁধের কারণে। এই বাঁধের সাহায্যে ভোলগার জল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এছাড়াও এই বাঁধ মস্কো কানালের মুখ। এই রিজারভয়ার তার নাম পায় ইভানকভস্কি জনপদের নামানুসারে যা ১৯৬০ সালে দুবনার অন্তর্ভুক্ত হয়। এই রিজারভয়ার মস্কো সাগর এবং ভোলঝস্কোয়ে রিজারভয়ার নামেও পরিচিত। এই জলাশয়ের আয়তন ৩১৬ বর্গ কিলোমিটার। প্রতি বছর এখান থেকে এক বিলিয়ন কিউবিক মিটার জল তোলা যায়। মস্কো সাগর মস্কো রেজিয়নের বৃহত্তম জলাশয় আর তভের অঞ্চলের তৃতীয় – রীবিনস্ক ও উগলিচের পরে। ১৯৩৭ সালে ইভানকভা জনপদে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ৩০০ মিটার লম্বা ও ২২.৫ মিটার উঁচু বাঁধ নির্মাণ করা হলে এই জলাশয় সৃষ্টি হয়। জলের সীমা নিয়ন্ত্রের জন্য এই বাঁধে রয়েছে আটটি ২০ মিটার চওড়া গেট। এই জলাশয় তৈরির ফলে ৩২.৭ হাজার হেক্টর ভূমি জলের নীচে চলে যায়। জলমগ্ন হয় ৭.৪ হাজার হেক্টর বন, ১৪.৮ হাজার হেক্টর আবাদী ভূমি, ৪.৮ হেক্টর বাসযোগ্য ভ...

ভোলগা নদীর খোঁজে – ৭৭ কানাকোভা

Image
কানাকোভা দুবনা থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে ছোট্ট এক শহর যদিও নদী পথে এর দূরত্ব অনেক অনেক বেশি। আমাদের ভোলগা ভ্রমণের শুরুতেই গেছিলাম তভের। তভের ভোলগার তীরে প্রথম বড় শহর, প্রাদেশিক কেন্দ্র যেমন ইয়ারোস্লাভল, কাস্ত্রোমা, নিঝনি নভগোরাদ, চেবকসারি, কাজান, উলিয়ানভস্ক, সামারা, সারাতভ, ভোলগাগ্রাদ আর আস্ত্রাখান। এই তভের আর দুবনার মাঝে ভোলগার তীরে কানাকোভার অবস্থান। মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে হলেও মনে হয় ফেরি পার হতে হয় বলে কানাকোভার সাথে দুবনার যোগাযোগ তেমন বেশি নয় যতটা আছে প্রায় একই দূরত্বে অবস্থানকারী কিমরির সাথে। তাই দীর্ঘ দিন দুবনায় থাকলেও ওদিকে কখনই যাওয়া হয়নি। মনে আছে ২০১০ সালে একবার ওদিকে গিয়েছিলাম সাইকেলে করে দমকিনো উপসাগর পর্যন্ত কলিসেভের সাথে। খুব ভালো ফটোগ্রাফার ছিলেন এই পাশা বা পাভেল কলিসভ। অনেক কিছু শিখেছিলাম তাঁর কাছ থেকে। গেছিলাম এক অক্টোবর দিনে সোনালী শরতের ছবি তুলতে। তবে এছাড়াও বেশ কয়েক বার মস্কো কানাল পাড়ি দিয়ে ওদিকটায় গেছি ছেলেমেয়েরা ছোট থাকতে, গ্রীষ্মে মাশরুম সংগ্রহে। একবার তো বনের ভেতর রাস্তা হারিয়ে যাচ্ছে তাই অবস্থা। ওদিকে যাবার আরও সুযোগ ছিল গুলিয়ার এক বান্ধবী ইরিনার ওখানে। ক...